• আজ- সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
Logo

লজিং মাস্টার

গোলাপ মাহমুদ সৌরভ / ৯৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৩

add 1
  • গোলাপ মাহমুদ সৌরভ

পর্ব ০২
সোহান প্রতিনিয়ত মিথিলার পিছনে সময় দিয়ে যাচ্ছে যাতে করে মিথিলা একদিন ভালো রেজাল্ট করবে আর সোহান ও লজিং থাকার স্বার্থকতা খুঁজে পাবে। তিন মাস পর মিথিলার পরিক্ষা। সোহান কে জানানো হলো সামনে মিথিলার পরিক্ষা ভালো করে পুনরায় সব গুলো প্রশ্ন রিভিশন করার জন্য। এদিকে সোহানও একটু চিন্তায় আছে যদি মিথিলা ভালো রেজাল্ট না করে তাহলে আঙ্কেল ও আন্টি আমাকে বাজে মনে করবে তাছাড়া আমাকে লজিং মাস্টার হিসেবে রেখে তাদের কোন লাভ নেই সুতরাং আমাকে যেভাবেই হোক মিথিলা কে ভালো রেজাল্ট করাইতে হবে। একদিন বিকেলে সোহান মিথিলা কে পড়ার টেবিলে বসিয়ে বললো আচ্ছা মিথিলা তুমি আমাকে কিংবা আমার পড়া বুঝতে অসুবিধা হয়। না, পড়া বুঝতে অসুবিধা হয় না তবে আপনাকে বুঝতে একটু অসুবিধা হয়। কীরকম অসুবিধা বলো। না,এখন বলবো না, সময় হলেই ঠিক বুঝে নিবো। মিথিলা তুমি মাঝে মাঝে এমন কিছু কথা বলোনা যা আমাকে বুঝতে অসুবিধা হয়। থাক স্যার বাদ দেন এসব কথা এখন বলুন এতো চিন্তিত কেন। না, মানে যদি তুমি ভালো রেজাল্ট না করো তাইলেতো তোমার বাবা আমাকে এ বাড়িতে রাখবে না তাইনা। এনিয়ে আপনি কোন চিন্তা করবেনা স্যার অপেক্ষা করুন এবার আমি পরিক্ষা ভালো রেজাল্ট করে সবাইকে দেখিয়ে দিবো আপনি এ বাড়িতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সত্যি বলছো মিথিলা। হ্যা সত্যি বলছি। কিছুদিন পরেই মিথিলার পরিক্ষা হয়ে গেলো রেজাল্ট ও এলো ক্লাসের সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে মিথিলা প্রথম স্থান পেয়েছে। মিথিলার বাবা মা অনেক খুশি। এদিকে সোহান ও লজিং থেকে নিজের পড়াশোনা করে যাচ্ছে। সোহানের এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলো। গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে পাস করেছে। খলিল সাহেব ও তার স্ত্রী সোহানের এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট শুনে বাড়িতে মিষ্টিমুখ করলো সবাই। সবাই যেন আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। সকাল হতেই সোহান খলিল সাহেব কে জানালো আঙ্কেল আমি এখনই বাড়িতে যাবো আমার মাকে খুশির খবর টা জানাতে হবে। ঠিক আছে যাও তবে সাবধানে যেও আরেকটা কথা তোমার কাছে টাকা আছে কী? হ্যা আছে অল্প সমস্যা নেই তাতেই হয়ে যাবে। ঘরের ভিতর থেকে মিথিলার মা বললো একটু দাঁড়াও বাবা। জ্বি আন্টি আসুন। মিথিলার মা হাতে একটা ব্যাগ আর হাতে কিছু টাকা নিয়ে সোহানের হাতে তুলে দিলো। আন্টি লাগবে না শুধু দোয়া করবেন। নাও বাবা তুমি আমার মিথিলার বাবার বন্ধুর ছেলে কিছু মনে করোনা। সোহান ব্যাগটা খুলে দেখে তার মায়ের জন্য একটা শাড়ি। সোহান হাসি মুখে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো কিন্তু যাওয়ার সময় মিথিলার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে মনটা খারাপ। তাই সোহান হাসিমুখে মিথিলা কে বললো ভালো থেকো মিথিলা আবার চলে আসবো। মিথিলা আবার আসার কথা শুনে একটু মিষ্টি হাসি দিয়ে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালো। সন্ধ্যায় সময় সোহান তার গ্রামের বাড়িতে মায়ের বুকে ফিরে এলো। অনেক দিন পর মা সন্তান কে কাছে পেয়ে এবং ভালো রেজাল্টের আনন্দে কেঁদে পেললো। জানিস সোহান, আজ যদি তোর বাবা বেঁচে থাকতেন কতো খুশি হতেন। জানি মা, সন্তানের সাফল্যের সময় বাবা কাছে নেই তা মেনে নেওয়া কতোটা বেদনাদায়ক। জানো মা আমি যে বাড়িতে লজিং থাকি ওই বাড়ির আঙ্কেল আমার বাবার একজন ভালো বন্ধু তিনিও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তিনি নাকি বাবা কে নিয়ে একসাথে যুদ্ধ করেছেন তাছাড়া তারা অনেক ভালো মানুষ আমাকে খুব ভালোবাসে তারা। ঠিক আছে বাবা তারা যেমন তোকে সম্মান করে তুইও তাদেরকে সম্মানের জায়গায় রাখবি কখনো তাদের সাথে কোন রকম অনন্যায় করবিনা। ঠিক আছে মা তোমার কথা মনে থাকবে। দুদিন পর সোহান যখন ঢাকা চলে যাবে তখন মা পিছনে এসে চোখের জলে সন্তান কে বিদায় দিলো। রাতের বারোটা সময় মিথিলার ঘরে কলিং বেল বেজে উঠল। মিথিলা লাফ দিয়ে উঠলো মনে হয় সোহান এসেছে। দরজা খুলতেই দেখলো সোহান। মিথিলা টাউস টাশকি খেয়ে বললো আমি কী ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছি নাকি সত্যি। কেন আমি এসেছি তাও তোমার সামনে হাতে চিমটি কেটে দেখো। মিথিলা সোহান কে জড়িয়ে ধরে বললো এবার বিশ্বাস হলো তুমি এসেছো। মিথিলা ছাড়ো আঙ্কেল আন্টি দেখলে খারাপ ভাববে। বাবা-মা ঘুমিয়ে গেছে। কিছু আছে খাওয়ার মতো আমার অনেক ক্ষুধা পেয়েছে। দিচ্ছি তুমি টেবিলে বসো। সোহান খেয়ে নিজের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। সকাল বেলা সোহান খলিল সাহেবের সাথে টেবিলে নাস্তা করতে গেলে তারা চমকে উঠে আরে সোহান কখন এলে তুমি? রাতে এসেছি এসে দেখি আপনারা ঘুমিয়ে পড়েছেন তাই ডাকিনী। তোমার মা কেমন আছেন? জ্বি ভালো আছেন। দোয়া করবেন আঙ্কেল এবার আমাকে মেডিক্যালে চান্স পেতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। দোয়া করি তুমি যেন চান্স পাও। কয়েক মাস পর মেডিক্যাল পরিক্ষা সোহান চান্স পেলো ভর্তি হওয়ার তাও আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে। এভাবে সোহান একদিন বড় ডাক্তার হলো। মায়ের স্বপ্ন পূরণ হলো। সোহান ডাক্তার হয়েছে মিথিলা খুব খুশি তার বাবা-মা ও খুশি। মিথিলার বাবার ইচ্ছে সোহানের সাথে মিথিলার বিয়ে হোক তাই সোহান কে বললো সোহান তুমি যদি কিছু মনে না করো তাহলে মিথিলা কে তোমার সঙ্গে বিয়ে দিতে চাই তুমি কী বলো? ঠিক আছে আঙ্কেল আপনারা যা ভালো মনে করেন তা-ই করুন। তুমি গ্রামে গিয়ে তোমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে গরীব মানুষদের সেবা করে আর মিথিলা তোমার সেবা করবে। লজিং মাস্টার হিসেবে তুমি ও মিথিলা কে দেখে রাখবে।

add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ১২:৪১)
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ১৫ শাবান, ১৪৪৫
  • ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩০ (বসন্তকাল)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Sundarban IT