• আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:১০ অপরাহ্ন
Logo

অশরীরীর রক্তদান

সাজ্জাদ ফাহাদ / ২৯২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১৯ জুন, ২০২৩
অশরীরীর রক্তদান
মানুষ কোনো অপকর্ম করলে আসমান থেকে তার উপর একটা আগুনের জাল এসে পরে৷

add 1
  • সাজ্জাদ ফাহাদ

অশরীরী কোনো গাছ নয়, কোনো মানুষ নয়, ব্যাংক বা কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, কোনো ভূত-প্রেত নয়৷ তাও সে শাখা-প্রশাখায় পূর্ণ। অশরীরী কেবলই অশরীরী। তার মতো কিংবা তার বিকল্প কিছু নেই। অশরীরীর কথা মতোই মানুষ সব কিছু করে। মানুষ অশরীরীর কথা অযথা মানে না। তার পেছনে মানুষেরও বিশাল স্বার্থ আছে। অশরীরী মানুষকে প্রতিনিয়ত-ই আগুনের জাল থেকে মুক্ত রাখে৷
মানুষ কোনো অপকর্ম করলে আসমান থেকে তার উপর একটা আগুনের জাল এসে পরে৷ এ জালে আটকে গেলে বের হওয়া অসাধ্য৷ কিন্তু এ জাল থেকে সহজেই মানুষকে মুক্তি দিতে পারে অশরীরী। কাউকে খুন করার প্রয়োজন হলে মানুষ সাথে সাথেই তা করে নেয়, কোনো সুন্দরী নারীর যৌবন নীরে লোভ পেলে মানুষ সাথে সাথেই তা কেরে নেয়, কাউকে গায়েব করার প্রয়োজন হলে মানুষ সাথে সাথেই তা করে নেয়…৷ আসমান থেকে জাল পরতে গেলেই অশরীরী তার ক্ষমতা বলে সে জাল ধ্বংস করে দেয়৷ অশরীরীর প্রধান গুন গুলোর মধ্যে একটা বিশেষ গুন হলো আগুনের জাল ধ্বংস করা৷ অপকর্ম করলে আসমানের তারারা উপর থেকে জাল ফেলে। অশরীরীর সাথে তারাদের নিবিড় সম্পর্ক। সে জন্য সব সময় জাল পরেও না। কিছু বদমাশ টাইপের তারা আছে, তারা অশরীরীকে সহ্য করতে পারে না, অশরীরীর মূল্য বোঝেনা, তারাই মূলত জাল ফেলে। অশরীরী ও কম নয়, আসমানের জাল জমিনে পরতে দেয় না৷ তার আগেই হাওয়ায় মিশিয়ে দেয়। আগুনের জাল হাওয়ায় মিশানোর মতো ঘটনা বহু ঘটেছে। আমি নিজ চোখে সে ঘটনা দেখিনি তবে উকিল সাহেব দেখেছে৷ আমি এখন উকিল সাহেবের চেম্বারে বসে আছি। পেশায় আমি একজন সাংবাদিক। দুর্ভাগ্যের কারণে বড় কোনো চ্যানেলের সাংবাদিক হতে পারিনি। ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিলো সাংবাদিকতা করার৷ পরে নিজেই একটা চ্যানেল খুলি৷ একটা পত্রিকা অফিস চালু করি। পত্রিকার নাম দিয়েছি, দৈনিক ভেজা বাংলা। আমার পত্রিকায় প্রতিদিন-ই কোনো না কোনো পাতি নেতার ছবি বড় করে ছাপা হয়৷ পাতি নেতা নিজেই অফিসে এসে এম পি-মন্ত্রীর সাথে তার তুলা একটা ছবি দিয়ে বলে যায় তাকে নিয়ে পত্রিকায় ভালো কিছু লেখার জন্য । সাথে হাজার দু-এক টাকাও দিয়ে যায়। পত্রিকায় পাতি নেতার ছবি বেরোবে তা তো বিশাল ব্যাপার। যেদিন যে পাতি নেতার ছবি ছাপাই সেদিনের সব পত্রিকা সে পাতি নেতাই কিনে নেয়৷ তার জন্য মাঝেমধ্যে নিজ থেকেও তাদের ছবি ছাপিয়ে দেই৷ এতে সম্পর্ক ভালো থাকে৷ দেশে পাতি নেতারা আছে বলেই বহু সাংবাদিক আর পত্রিকা অফিস টিকে আছে। উকিল সাহেব অতিশয় নিখুঁত ভাবে আমাকে আগুনের জাল হাওয়ায় মিশানোর ঘটনা বলছে। আমি মনোযোগ দিয়ে তা শুনে যাচ্ছি, মাঝে মধ্যে হ্যাঁ-হু করছি।
সেদিন ছিলো আমাদের বার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি এডভোকেট মনিরুজ্জামান খান স্যারের চৌদ্দ তম বিবাহ বার্ষিকি। স্যার বারের সব মেম্বারদেরকে স্বপরিবারে তার বাসায় ইনভাইট করেছে৷ সেখানে অনেক সচিব, এম-পি, মন্ত্রীরাও ছিলো৷ সন্ধ্যা সাতটা থেকে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে৷ আমি ইশাকে নিয়ে ছয়টা ত্রিশে, আধঘন্টা আগে সেখানে পৌঁছেছি। ধীরেধীরে সবাই আসলো। পার্টি শুরু হলো। নাচ-গান হচ্ছে, অনেকে ফটোসেশন করছে, অনেকে গল্প করছে, অনেকে আবার তার বিশেষ মামলার ঘটনা বলছে…। খাওয়া-দাওয়া শেষে আমি ইশাকে নিয়ে একটা টেবিলে যেয়ে বসি৷ সেখানে তৌকিকে দিখি৷ সে আমার কলেজ ফ্রেন্ড৷ এখন শিল্প মন্ত্রণালয়ে বড় একটা পোস্টে আছে৷ তৌকিকে ইশার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই৷ আমরা বসে কথা বার্তা বলছিলাম৷ এগারোটার দিকে হঠাৎ-ই একটা বিকট আওয়াজ আমাদের কানে আসে ৷ গুলির শব্দ৷ সবাই থমকে গেলাম। একজন বলল, এই মন্ত্রি মহোদয়কে গুলা করা হয়েছে৷ বাহিরে থেকে পুলিশ এসে চারপাশ ঘিরে ফেলেছে৷ যাতে কেউ পালাতে না পারে৷ মন্ত্রী মহোদয়কে ধরাধরি করে তাতক্ষনিক ভাবে হাসপাতালে নেওয়া হলো। পুলিশ সবাইকে চেক করছে৷ অনেকের কাছেই পিস্তল পেয়েছে৷ তাদের মধ্যে রয়েছে, আমাদের বার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী মহোদয়ের পি.এস, বিশিষ্ট শিল্পপতি আজগর সাহেব, ডি.সি মামুন সাহেব, শিল্পপতি কামরুল হাসান। পুলিশ তাদেরকে একটা নির্দিষ্ট কক্ষে নিয়ে যায়৷ আর আমাদের সবাইকে বাহিরে পাঠিয়ে দেয়৷ আমরা বাহিরে দাঁড়িয়ে আছি৷ মেইন গেইট বন্ধ ; সেখানে দুজন কন্সটেবল দাঁড়িয়ে আছে৷ আমাদের থেকেও কেউ পালাবার সুযোগ নেই৷ চারপাশ পুলিশ আর র‍্যাবে ঘেরাও করা৷ আমরা দেখলাম আসমান থেকে একটা আগুনের জাল এসে সেক্রেটারি সাহেবের বাড়িতে পরছে। জালটা অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল। আর একটু নামলেই সারা বাড়ি জালে বন্দি৷ সকলের আর্তনাদ শুরু হলো। এমন সময় আমরা অশরীরীর কন্ঠ শুনতে পাই। সকলে বুঝতে পারলাম অশরীরী এসেছে। তারপর অশরীরী জালটাকে ধ্বংস করে দেয়৷ জালের ছোট কণা গুলো ও নিচে পরেনি৷ সেগুলো উপরেও যায়নি। হাওয়ায় মিশে গেছে। অশরীরী চলে যায়৷ কিছুক্ষণ পর বাড়ির ভেতর থেকে আমাদের বার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী মহোদয়ের পি.এস, বিশিষ্ট শিল্পপতি আজগর সাহেব, ডি.সি মামুন সাহেব, শিল্পপতি কামরুল হাসান হাসি মুখে বেরিয়ে আসে৷ পুলিশ মেইন গেইট খুলে দেয়। আমরা যার যার মতো সেখান থেকে তারাহুরো করে চলে আসি৷ বাসায় ফিরে টিভিতে দেখি, মন্ত্রী মহোদয়ের মৃত্যুর সংবাদ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে কিন্তু অশরীরীর কথা কোথাও উল্লেখ্য নেই৷
উকিল সাহেবের কাছ থেকে অশরীরী সম্পর্কে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা শুনে ঠিক করলাম অশরীরীকে নিয়ে একটা গল্প লেখবো। গল্পের নামও ঠিক করে ফেলেছি- ‘ আড়ালের ভোজন ‘৷ রাতে লেখতে বসেছি৷ উকিল সাহেবের বলা ঘটনাটা সবটা হুবহু লিখে তাহসিনের কাছে গেলাম। তাহসিন আমার স্ত্রী। ও এখন প্রেগন্যান্ট ; ওর পেটে আমার রক্তের বসবাস। এ জন্য ওর প্রতি এখন বিশেষ যত্ন নিতে হয়৷ কিছুক্ষণ পর এসে আবার লেখতে বসি। কিবোর্ড চেপে গটগট করে লেখা আরম্ভ করি :
উপরিউক্ত ঘটনা ছাড়াও অশরীরীর এমন আরো বহু ঘটনা আছে। তবে কেউ কারো সাথে নিবিড় সম্পর্কে না জড়ালে এসব ঘটনা প্রকাশ করে না। ঘটনা সংগ্রহের তাগিদে আমি অনেকের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়েছি। তারপরও অনেকে অশরীরীর ঘটনা গুলোকে আমার কাছে আড়াল করেছে৷ আবার অনেকে জিজ্ঞেস না করতেই আমায় ডেকে নিয়ে বলেছে৷ এসব ঘটনা সত্য মিথ্যার মিশ্রণ। এখন আরেকটি ঘটনা বলবো। এ ঘটনা যার বাস্তবতা, তিনি গফুর আলি।
গল্পটা এখনে গফুর আলির ভাষাতেই তুলে ধরা হলো:
আমি এহন গরিব মানুষ। বাপে বাইচ্চা থাকতে বড় লোক আছিলাম। তহন দুনিয়ার কিচ্ছু বুঝি নাই৷ বাপ মরার ছয় মাসেও কিচ্ছু বুঝি নাই৷ এরপরে ধীরেধীরে দুনিয়া বুচ্ছি, দুনিয়া চিনছি। এই দুনিয়ায় কেউ মানুষ না, সব হইলো চামচিকা ; আস্ত হারামজাদ। তহন বিয়ার ছয় মাস৷ আমার বড় ভাই হাসনাত মিয়ার নাম৷ সে কি করছে জানেন! আমার বউয়ের সাথে প্রেম জুটাইছে৷ আমি ঘরে না থাকলে সে আমার ঘরে যাইতো। এক দিন আমার হাতে ধরা পরছে৷ দাঁ দিয়া দিছি কুপ। এক কুপে পেটের ভুড়ি সহ বের কইরা ফেলছি৷ আপনের বউয়ের লগে যদি এমন হইতো আপনে চুপ থাকতেন! আমার দোষের কিছু আছিলো না৷ অথচ, আমার উপরে আগুনের জাল ফাইলাইছে৷ আল্লার অশেষ মেহেরবানি অশরীরী আমারে রক্ষা করছে৷
ছোট্ট কাল থেইকা-ই আমি অশরীরীর ভক্ত আছিলাম। অশরীরী ও আমার মাথার উপরে তার ছায়া রাখতো সব সময়। ছায়া রাখবোই না কা! যহন যা কইতো সবই কইরা দিতাম, পালা কুত্তার মতো যেমনে কইতো হেমনেই ঘুরতাম৷ একদিন অশরীরী আমারে কইলো মোবারক মিয়ার ঘর আগুন দিয়া জ্বালায় দিতে। তহন বয়স কম, রক্ত আছিলো গরম৷ দিছি আগুন ধরাইয়া৷ আমি যখন কাম সাইরা বাড়ি ফিরতাছি তহনি আমার উপর ফাত কইরা একটা আগুনের জ্বাল আইসা পরে৷ এই যে দেহেন আমার পুড়া দাগ। এহনো যায় নাই৷ পিঠে পুড়া গেছিলো বেশি। লুঙ্গি খুইলা দেখাইতে পারতাম না , হেনেও পুরা গেছে। বুচ্ছেন তো? তখনি হঠাৎ কইরা অশরীরী আইসা আমারে উদ্ধার করে৷ উদ্ধারের পরেও কয়েক মাস আমার মনে হইতো আমার উপর আসমান থেইকা আগুনের জাল পরতাছে! সেই দিন অশরীরী আগুনের জাল হাওয়ায় মিশায় দেয়, আমারে উদ্ধার করে৷ অশরীরী মানুষের প্রাণ, মানুষের বন্ধু। অশরীরীর কারনেই আমার মতো আরো বহুত মানুষ জীবন ফিরা পাইছে। এখনো বাইচ্চা আছে৷ আসমানের কিছু তারা হইলো আবাল ছন্দের। মানুষের নষ্টের তালে থাহে। আপনে আইজ্জা যাইয়াই আপনার পত্রিকায় তাগো কথা লেখবেন৷ তাগো বিরুদ্ধে যাতে সরকার জরুরি অ্যাকশন নেয়৷ তাগো বিচার হওয়া দরকার। দেইক্ষেন আবার আমার ঘর পুড়ার ঘটনা আবার পত্রিকায় উঠাইয়েন না৷ তাইলে কিন্তু বিপদ আছে৷
এটুকু লিখে লেখা স্থগিত করলাম। আজ আর লেখবো না৷ হাটতে হাটতে আব্বা স্কয়ার এর কবরের কাছে গেলাম৷ শুক্রবারে মসজিদে ইমাম সাহেব বলেছে বেশি করে কবর দেখতে। অবসর সময় কবরস্থানে কাটাতে৷ যে যত কবরস্থান দেখবে তার মনে ততো প্রশ্ন আসবে। আল্লাহর ভয় আসবে। একবার ভাবছি বউ-পোলাপান নিয়া রায়েরবাজারের কবরস্থানে ছোট্ট একটা সফর করবো৷ কিন্তু ইমাম সাহেব বলেছে, ইসলামে মাহিলা মানুষ কবরস্থানে যাওয়ার নিয়ম নাই ; তাই সফর বন্ধ। মরলে নারী-পুরুষ সবার কবরস্থানেই যাইতে হয় কিন্তু বাইচ্চা থাকতে নারী গেলেই দোষ! আজ মজ্ঞলবার৷ আমি গত তিন দিন ধরে কবরস্থানে রোজ দু’বেলা করে যাই৷ দাদা-দাদির কবরটা জিয়ারত করি। আব্বা-আম্ম এখনো জীবিত আছে ৷ তারা মারা গেলে তাদেরটাও করতাম৷ কবরস্থানে গেলে কিছু কবরের উপর যেয়ে শুয়ে থাকতে ইচ্ছা করে, তাদের জন্য কান্না আসে। আর শালা সামছুদ্দিনের কাবরটা দেখলে ইচ্ছা করে প্যান্ট খুলে সোজা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে দেই৷ আব্বার সাত লাখ টাকা মেরে খেয়েছে। শুধু অশরীরীর কারণে কিছু করতে পারিনি। সুযোগ একবার পেলে তার অশরীরীকে ও।
কবরস্থান থেকে ফিরে আসার পথে ল্যাবরেটরি স্কুলের মাঠে বিশাল সমাবেশ দেখে সেখানে গিয়ে পেছনে দাঁড়ালাম। বহু লোকজন এসে জড়ো হয়েছে। মাঠের ও প্রান্তে মঞ্চ তৈয়ার করা হয়েছে৷ সেখানে সাজানো চেয়ার, সামনে তাজা ফুল। দূর থেকে দেখছি বদির মতো হারামজাদার গলায় মালা ঝুলছে। ইচ্ছা করছে যেয়ে ফাত করে মালাটা ছিড়ে বদমাশটাকে ফুল গুলা খাইয়ে দিতে৷ আজাদ সাহেব ফুল নিয়ে ঠিকি বলেছেন- ” ফুলের জীবন বড়োই করুণ। অধিকাংশ ফুল অগোচরেই ঝ’রে যায়, আর বাকিগুলো ঝোলে শয়তানের গলায়।”
আলাউদ্দিন মঞ্চে উঠেছে৷ অশরীরীর খুব করে সুনাম করছে।
– আমরা মানব জাতি৷ সৃষ্টিকর্তা সেরা বললেও আমরা বড়ই অসহায় জাতি। বেঁচে থাকার অধিকার আমাদের থাকলেও সেই আসমানের তারারা আমাদের বাঁচতে দেয় না। তারা আগুনের জাল ফেলে বারবার আমাদের জাতিকে ধ্বংস করেছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে তারা আমাদের কিছুই করতে পারে নাই৷ পারে নাই বলে যে চেষ্টা করে নাই, এ কথা বললে ভুল হবে৷ তারা আমাদেরকে ধ্বংস করার জন্য বারবার চেষ্টা চালিয়ে গেছে এবং এখনো চালাচ্ছে৷ আগামী দিনে ও তারা একই কাজ করবে৷
আমরা যখন আমাদের বার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি এডভোকেট মনিরুজ্জামান খান সাহেবের চৌদ্দ তম বিবাহ বার্ষিকির অনুষ্ঠানে যাই। সেখানে কে বা কারা আমাদের মন্ত্রী মহোদয়কে গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু সে হত্যার দায়ে আসমানের সেই তারারা আমাদের বার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী মহোদয়ের পি.এস, বিশিষ্ট শিল্পপতি আজগর সাহেব, ডি.সি মামুন সাহেব, শিল্পপতি কামরুল হাসানের উপর আগুনের জ্বাল ফেলার চেষ্টা করে এবং তারা জ্বাল ছুড়েছেও কিন্তু অশরীরী তাদেরকে সে জ্বাল থেকে রক্ষা করেছে। এমন আরো বহু ঘটনা আছে৷ তারারা বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে বাষ্পীয় উপায়ে আমাদের গা থেকে অধিক মাত্রায় রক্ত নিয়ে যাচ্ছে, যা আমরা টেরও পাচ্ছিনা৷ কিন্তু অশরীরী আমাদেরকে প্রতি মাসে বেঁচে থাকার জন্য অমূল্য রক্ত উপহার দিয়ে যাচ্ছে। অশরীরী…
– অ্যাহ ; আসছে মিয়া গীত গাইতে! সারা বছর যে খাইছে সেইটার নাম নাই, একটু খানি বমি করছে সেইটার নাম হয়ে গেছে! ফালতু।
একথা বলে আমার পাশ দিয়ে একটা লোক বেরিয়ে যায়৷ কিছুক্ষণ পর আমিও চলে আসি। কিছুটা সামনে এগিয়ে দেখি একটা লোক চিত হয়ে মাটিতে পরে আছ। তার কাছে এগিয়ে যাই। গা থেকে ঘামের দুর্গন্ধ। এটা সেই লোক যে কিছুক্ষণ আগে আমার পাশ দিয়ে সমাবেশ থেকে বেরিয়ে এসেছিলো। তাকে বললাম:
– এই যে ভাই। শুনছেন?
কোনো সারা শব্দ নেই৷ আবার বললাম:
– এই যে ভাই৷ এই যে শুনছেন?
– এই কে!
– আমি সাংবাদিক জাকির।
– আমার কাছে কোনো খবর নাই৷ দূর হন৷
– আপনার গায়ে রক্ত নাই। ইস্কুলের মাঠে ফিরে জান। সেখানে এক ব্যাগ রক্ত পাবেন৷
– ধুর মিয়া! নিজের কামে জান৷ আপনের রক্ত লাগলে আপনে যান৷ নিজের চৌদ্দ গোষ্ঠী লইয়া যান৷
আমি আর কিছু বললাম না৷ গোমড়া মুখে পাশ কাটিয়ে চলে এলাম। বাসায় ফিরে দেখি গণমাধ্যম গুলোতে কয়েক জনের ছবি, ভিডিও ফুটেজ সহ নিউজ ছড়িয়েছে , আজ বিকালে কুমিল্লার ল্যাবরেটরি স্কুলের মাঠে অশরীরীর রক্তদান। গণমাধ্যমের ছবিতে রক্তপেয়ে সকলে আনন্দে পুলকিত। এসব নিউজের মাঝে আমার মনে হয় চিত হয়ে পরে থাকা লোকটার কথা৷ আমি ক্যামেরা নিয়া দৌঁড়ে সে লোকটার কাছে যাই। যেয়ে দেখি লোকটা সেখানে নেই৷ সামান্য দূরে বহু লোকজন জড়ো দেখাচ্ছে। আমি পেছন থেকে ভীর ঠেলে সেখানে যেয়ে দেখি একটা আগুনের জাল সে লোকটাকে কিছুটা উপর থেকে তাক করে আছে। সকলে অপেক্ষা আছে কখন জাল টা পরবে। লোকটা আমার দিকে তাকায়। আমি ভাবলাম সে হয়তো আমার থেকে সাহায্য চাইবে বা অশরীরীকে স্মরণ করবে। কিন্তু তার বিপরীত হলো। সে বলল :
– এই মিয়া জান এন্তে। তামাশা দেখতে আইছেন!
– আপনার এই অবস্থা কেনো?
– বাল মার্কা কথা বন্ধ করেন। ভাগেন৷
– জ্বি আচ্ছা৷
আমি পেছনে সরে আসতেই আবার লোকটা বলে:
– এই মিয়া হুনেন।
– জ্বি।
– না কিছু না জান৷ হাটার সময় জুতার আওয়াজ করবেন না৷ ম্যাজাজ গরম হয় । ভাগেন।
আমি ভীর ঠেলে বেরিয়ে পরি৷ কিছুটা এগোতেই চারপাশে মানুষের ছুটাছুটি শুরু হয়, লোকটার চিৎকার ভেসে আসে৷ হয়তো আগুনের জাল তাকে বন্দি করেছে।

add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (সন্ধ্যা ৬:১০)
  • ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ১৮ শাবান, ১৪৪৫
  • ১৬ ফাল্গুন, ১৪৩০ (বসন্তকাল)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Sundarban IT