• আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
Logo

১৪ বছরে সরকারি আইনি সহায়তা পেয়েছে পৌনে ৯ লাখ মানুষ

লেখক : / ৬৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩

add 1

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস আজ শুক্রবার। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ/বিনামূল্যে আইনি সেবার দ্বার উন্মোচন।’ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ২০০৯-২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত কর্মকাণ্ডের তথ্য-পরিসংখ্যান সংবলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯-২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে আইনি সহায়তাপ্রাপ্ত সর্বমোট উপকারভোগীর সংখ্যা আট লাখ ৭৯ হাজার ৯২৯ জন। সংস্থাটি দেশব্যাপী আইনি সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় ২০০৯ সাল থেকে মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত তিন লাখ ৫৩ হাজার ৬৫৬ জনকে আইনি পরামর্শ দিয়েছে। এসময়ে সংস্থাটি ৮২ হাজার ৫৮৮টি বিরোধ বা মামলা এডিআর পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করেছে এবং মামলা বা বিরোধের ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ১৩৪ কোটি ৯০ লাখ ছয় হাজার ৪৯৮ টাকা আদায় করে দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৩’ উদযাপন উপলক্ষে আইন ও বিচার বিভাগ এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর নিবন্ধন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণ (১৪, আবদুল গনি রোড) থেকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পর্যন্ত একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। র‌্যালিতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। সারাদেশের জেলা পর্যায়ে র‌্যালি, আলোচনা সভা, লিগ্যাল এইড মেলা, ম্যাগাজিন/স্যুভেনির/দেয়ালিকা প্রকাশ, প্রচার ও প্রকাশনাসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
১১ বছরে বিনা খরচে আইনি সেবা পেয়েছেন লাখের বেশি কারাবন্দি: এদিকে ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’র আওতায় বিনামূল্যে এক লাখ পাঁচ হাজার ৬৫০ জন কারাবন্দি আইনি সহায়তা পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির পক্ষে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে আইনি সহায়তাপ্রাপ্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৭৭ জন। ৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিসে আইনি সহায়তাপ্রাপ্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ছয় লাখ ৭২ হাজার ৮০১ জন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলে আইনি সহায়তাপ্রাপ্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৩৮ জন এবং টোল ফ্রি হেল্পলাইনের মাধ্যমে আইনি সহায়তাপ্রাপ্ত উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ ৫৩ হাজার ৪১৩ জন। এ ছাড়া ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত এক লাখ ৫ হাজার ৬৫০ জন কারাবন্দি আইনি সহায়তা পেয়েছেন। দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ২০০০ সালে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ নামে একটি আইন প্রণয়ন করে। এ আইনের আওতায় সরকার ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করে এবং দরিদ্র অসহায় মানুষের আইনের আশ্রয় ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশে এ সংস্থার অধীনে প্রত্যেক জেলায় জেলা ও দায়রা জজকে চেয়ারম্যান করে একটি করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টেও একটি কমিটি রয়েছে। যার চেয়ারম্যান হচ্ছেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি।
সরকারি আইনি সেবাপ্রাপ্তির যোগ্যতা: অসচ্ছল বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তি যার বার্ষিক গড় আয় সুপ্রিম কোর্টে আইনগত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেড় লাখ এবং অন্যান্য আদালতের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকার ঊর্ধ্বে নয়। বীর মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে দেড় লাখ টাকার ঊর্ধ্বে নয় এবং যে কোনো শ্রমিক যার বার্ষিক গড় আয় এক লাখ টাকার ঊর্ধ্বে নয়। যে কোনো শিশু; মানবপাচারের শিকার যে কোনো ব্যক্তি; শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু; নিরাশ্রয় ব্যক্তি বা ভবঘুরে এবং যে কোনো উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোক। পারিবারিক সহিংসতার শিকার অথবা সহিংসতার ঝুঁকিতে আছেন এরূপ যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি; বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন এমন ব্যক্তি; ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ মা এবং দুর্বৃত্ত দ্বারা অ্যাসিড দগ্ধ নারী বা শিশু। আদর্শগ্রামে গৃহ বা ভূমি বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি; অসচ্ছল বিধবা স্বামী পরিত্যক্তা এবং দুস্থ নারী; যে কোনো প্রতিবন্ধী; বিনা বিচারে আটক অসচ্ছল ব্যক্তি; আদালত কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অসচ্ছল বলে বিবেচিত ব্যক্তি; জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিবেচিত বা সুপারিশকৃত অসহায় বা অসচ্ছল ব্যক্তি এবং এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণে সংস্থা কর্তৃক চিহ্নিত ব্যক্তি সেবাপ্রাপ্তির যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন।

add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (সন্ধ্যা ৬:৫৮)
  • ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ১৮ শাবান, ১৪৪৫
  • ১৬ ফাল্গুন, ১৪৩০ (বসন্তকাল)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Sundarban IT