• আজ- সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন
Logo

একজন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টরের আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস

শেখ নূর আলম / ৩৪৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই, ২০২৩
নুর আলম
শেখ নুর আলম

add 1

ফেসবুকে সগরম থাকি তাই অনেকের ধারনা কিবা কাজ করে, কি আর ডিউটি? তাকে দেখিতো শুধু অনলাইনে আর কমেন্টের উচিত কথায়! সহকারী সাব- ইন্সপেক্টর তাই অনেকের চিন্তা অনেক টাকার মালিক ও সে! তাইতো বন্ধু, আত্মীয় স্বজনের একটি অংশ ফোন করে বলে কিছু টাকার জন্য একটা ফ্লাট, একটা জমি রাখতে পারছিনা। লাখ দুয়েক টাকা হবে?দুমাস ছমাস পরে দিয়ে দিতাম! অবশ্য একযুগ চাকরি শেষ করেছি। মানুষের ধারনা থাকাটাই অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু তারা হয়তো জানেনা একজন সরকারি চাকুরির দিনযাপনের ইতিহাস । দু একজন সরকারি পিয়নের দু চারটি ফ্লাটের ভাইরাল খবর দেখে সবাইকে চেপে দিয়ে মেপে দেয়ার অভ্যাস তো জাতিগত। তাছাড়া বাংলার সিনেমায় পুলিশে তো চাকরির দুবছরেই ঘুষ খেয়ে কোটিপতি বনে যাওয়ার গল্প আছেই। তাদের জন্য বার্তা হলো: আমরা যারা পোষাকের চাকুরি করি কায়িক শ্রম করি না । হয়তো মোটা পোষাক আর শক্ত বুট পায়ে ডিউটি করি । আমাদের ও ঘাম ঝরে তবে শ্রমে নয় গরমে ! মাথায় বোঝা নিয়ে নয়। কাধের দায়িত্বের চাপে। তাই ডিউটির মধ্যেই অনেক সময় বসে বসে সবার খোজ খবর নেয়া, কিছু লেখার চেষ্টা করা এসব দেখে আমরা যে সবসময় ফ্রি আছি সেটা মনে করার অবকাশ নেই। এবার আশা যাক ছুটি নিয়ে । আমরা রাত জেগে মানুষের নিরাপত্তায় ডিউটি করি । ঘুমকে বিসর্জন দিতে অনেক কষ্ট হয় । যারা সিভিল সেক্টরে চাকরি করে তারা অনেকে রাতের তারা যেমন রাত জেগে গোনে না তেমনি তাদের পকেট খরচ ও নেই । স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে সারারাত ঘুমিয়ে কাটায়। জাতীয় দিবসে ছুটিতে তারা ছেলে মেয়ে বন্ধুর সাথে আড্ডা দেয় আর অন্যদিকে আমাদের ডিউটি সেদিন দীর্ঘ হয়। সাপ্তাহিক ছুটিতো কল্পনায় আনলে চাকরি বিস্জন দিতে মন চায়। আর আমাদের সন্তানেরা খুব বলিষ্ট হয় কেন জানেন? তিনমাস পর পর যখন ছুটি পেয়ে বাড়ি যাই তখন ঠিকই সন্তানকে একটু বড় দেখায় ! অনেকের প্রশ্ন আপনাদের বেতন তো বাড়িয়েছে অনেক টাকা তো জমান? তাহলে টাকা কই যায়? একটা কথা মনে রাখা জরুরি যে সৈনিক কনষ্টেবলে ঢুকছে সে মেধাবি হলেও দারিদ্রতার কষাঘাতে এখানে আসতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে যারা কনষ্টেবলে চাকরিতে টিকছে অনেক প্রতিযোগিকে ঠেলে যোগ্যরাই চাকরি পাচ্ছে। খোজ নিয়ে দেখবেন তাদের ফ্যামিলিতে আর্থিক টানপোড়ন ইতিহাস রয়েছে। এই অল্প যোগ্যতায় স্বল্প বেতন চাকরিটা পেয়ে সে নিজের চাহিদা মেটাবে নাকি তলাবিহীন ঝুড়ি নামের পরিবারকে অর্থ যোগান দিবে? ফলে সে শারিরীক পরিশ্রম না করেও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হচ্ছে দিনের পর দিন। এমনকি যখন এহেন পরিস্হিতে সে একটা বিবাহ বন্ধন তথা তার সন্তান সন্তাতি শশুর শাশুড়ি হচ্ছে তাদের চোখেও বখিল হিসেবে আখ্যায়িত হতে হচ্ছে। কিন্তু আসল ব্যাপারটা তো সেই জানে, যার উপর দিয়ে এতো বোঝার চাপ। ছোট চাকুরি সবার মন যোগাতে না পারলেও ডাল ভাত দিয়ে পরিবারকে সান্তনা দেওয়া যায় বলেই সবাই সরকারি চাকুরির পিছনে দৌঁড়ায়। আর ঐ দৌঁড়ানোটা হয়ে যায় তার আমরন স্বভাব। পিছে ফিরে তাকানোর সময় তার আর থাকেনা। সামনে থাকে হাজারো বাধা পিঠে থাকা অসহনীয় বোঝা। তবুও যে তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, পিছে ফিরলে সামনের পথ হারানোর আছে ভয় !!!

  • ফেসবুক থেকে সংগৃহিত
add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ৩:৩৮)
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ১৫ শাবান, ১৪৪৫
  • ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩০ (বসন্তকাল)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Sundarban IT