• আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:১৮ অপরাহ্ন
Logo

ভালো থাকুক “গঞ্জ” গুলো

লেখক : / ২৭৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

add 1
  • আবু সাঈদ

আমার বাড়ি কুড়িগ্রাম। মজা করে মাঝে-সাঝে বলি আমি “গ্রামের মানুষ”। আবার হয়তো বলি UK-এর মানুষ (উলিপুর, কুড়িগ্রাম)। তা যা-ই বলি না কেন, আমি সত্যি-সত্যি গ্রামেরই মানুষ। তবে, সরকারি কর্মচারী হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে চাকরি করতে হয়েছে “গঞ্জে-গঞ্জে”। সহকারী কমিশনার (ভূমি), কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট); উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) এবং সর্বশেষ বদরগঞ্জ (রংপুর)। দিন-দুই আগে বদরগঞ্জ থেকে বদলি হয়েছে। কর্মজীবনে ১৮-শত দিন কেটে গেল উপজেলা পর্যায়েই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মনে হয়নি, একেবারে উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে চাকরি করতে এতটা ভালো লাগবে। কিন্তু, ভালোলাগা কাজ করেছে ‘অসম্ভব বেশি’। উপজেলা এমন একটি প্রশাসনিক স্তর, যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে, গ্রামের সহজ-সরল লুঙ্গি-গামছা পরা ‘চির-আপন’ মানুষটাকেও একেবারে কাছে থেকে সরাসরি সেবা দেয়া সম্ভব; সেটা সব ধরনের সরকারি চাকরিতেই। আমি সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছি। আর কখনো উপজেলা পর্যায়ে এভাবে কাজ করার সুযোগ হবে না, হয়তো।
আমার চিরনতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধীরেন্দ্রনাথ স্যার নিজে আর্ট করে স্কুলভবনের সামনে লিখেছিলেন, “শিক্ষার জন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও।” ছাত্রজীবন শেষে সেবার জন্যই বেরিয়েছি। ছাত্রজীবনে কেউ-কেউ যেমন নিজে আলাদা নোট করে, সযত্নে রেখে, ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে এগিয়ে যায়; ঠিক তেমনই ৩ উপজেলায় যোগদানের পরপরই লিখিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে, সবসময় তা সাথে রেখে অর্থাৎ নোটবুকের সাথে রেখে ভালো ফলাফলের (মানুষকে সেবা দেয়ার) চেষ্টা করেছি; সরকারের অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব (ক্ষমতা নয়) পালনে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি সবসময়। সফল সবক্ষেত্রে নই, তবে সার্থক হয়েছি সবক্ষেত্রেই। “অন্যকে বদলে দিতে পারি আর না-পারি, নিজেকে তো বদলে দিতে পারি!”- এটা ভেবেই মানুষের সেবার চিন্তা করে উদ্যোগগুলো নেয়া।
উপজেলা পর্যায়ে চাকরির (পড়ুন দায়িত্বপালনের) প্রায় শেষদিকে এসে মনে হলো, কী করেছি বা করার চেষ্টা করেছি তা ‘একখানে করা প্রয়োজন’। সে-কারণে বদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে কিছু কথা লিখেছি।
কাজ দেখলে কাজের আইডিয়া আসে, অনেকে অনুপ্রাণিত হয়, করে গঠনমূলক সমালোচনা। সুহৃদগণ তা দেখলে তাঁদের ভালোও লাগে। সে-কারণে, অতীতে কোনো উপজেলার বিশেষ উদ্যোগ ফেসবুকে সেভাবে না দিলেও, বদরগঞ্জের সেই লেখাটি হুবহু এখানে তুলে ধরছি।

বিদায়, প্রিয় বদরগঞ্জ

প্রায় ১ বছর ১১ মাস পর বদরগঞ্জ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা নিয়ে পালন করার চেষ্টা করেছি। এ-সময়ে পেয়েছি বদরগঞ্জের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সব ধরনের সহযোগিতা।
২০২২ সালের ১১ মে সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানগণের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন ২০ রংপুর-২ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ ফজলে রাব্বি সুইট ও পৌরসভার মেয়র জনাব আহাসানুল হক চৌধুরী টুটুল। উক্ত কর্মপরিকল্পনা সভায় গৃহীত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা সকলের সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হয়। কিছু কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন।
বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন উদ্যোগগুলোর জন্য কমপক্ষে চারবার “কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগ্রতি পর্যালোচনা সভা”র আয়োজন করা হয়। ২০২২-২০২৩ এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রথম কার্যদিবসে “স্বাগত ২০২২-২০২৩” এবং “স্বাগত ২০২৩-২০২৪”-এর আয়োজন করে বিভিন্ন দপ্তরের বিগত অর্থবছরের কার্যক্রমের পর্যালোচনা এবং নতুন অর্থবছরের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিদায়বেলায় দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বাস্তবায়িত বিশেষ কিছু উদ্যোগের বিবরণ তুলে ধরা হলো।
পর্যটন ও বিনোদন

নান্দিনা হাঁড়িভাঙা পার্ক। [গোপালপুর ইউনিয়নে ৬৪.৫৩ একর জলমহাল ঘিরে পার্ক তৈরি করা হয়েছে। এখানে রয়েছে সাত শতাধিক হাঁড়িভাঙা আমের গাছ। রংপুরের এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও ঐতিহ্য রক্ষায় অংশীজনদের আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেখানে ‘কল্পনীল’ নামে রয়েছে একটি নান্দনিক মঞ্চ ও সামনে অর্ধবৃত্তাকার গ্যালারি। রয়েছে ওয়াচটাওয়ারের আদলে গোলঘর (আম্রকুঞ্জ)। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন স্থানে বসার বেঞ্চ। পার্ক উন্নয়নের কাজ চলমান।]
>> উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পাটোয়াকামড়ি ও ভাড়ারদহ বিলের ২৩ একর জায়গা জুড়ে ইকোপার্ক নির্মাণাধীন। ২০২৩-এর ফেব্রুয়ারিতে অবৈধ দখলে থাকা পাটোয়াকামড়ি বিলের ১১.৩০ একর জমি উদ্ধার করে খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বে খননকৃত পাশাপাশি থাকা ভাড়ারদহ বিলের সমন্বয়ে ইকোপার্ক তৈরির প্রাথমিক প্রকল্প (বসার স্থান তৈরি) ইতোমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। নির্বাচনের পরে কাজ শুরু হবে।

>>বদরগঞ্জ শিশুপার্ক নির্মাণ
শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে

>> স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দীপশিখা (শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র) নির্মাণাধীন। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন (সম্প্রতি উদ্ধারকৃত) ৫২ শতক জমিতে নির্মিত হচ্ছে “দীপশিখা”। ২০২২ সালের ১১ মে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সভায় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে, উক্ত স্থানটি দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে অবৈধ দখলে থাকায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা দখলমুক্ত করা হয়। দীপশিখায় থাকবে- বদরগঞ্জ মাল্টিপারপাস ট্রেনিং সেন্টার, পাবলিক লাইব্রেরি, স্কাউট ভবন, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, কচিকাঁচার ভুবন, শিল্পকলা একাডেমি, স্পোর্টস জোন ও শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করার লক্ষ্যে সায়েন্স জোন। পাবলিক লাইব্রেরির প্রবেশপথে থাকবে একটি ‘রোবট’। মূল ভবনের সামনের গোলচত্বরে থাকবে বইয়ের র‌্যাকের আদলে কংক্রিটের ভাস্কর্য। সেখানে বিখ্যাত বইগুলো মূল অবয়বে সাজানো থাকবে। ওই ভাষ্কর্যের নাম হবে “দীপশিখা”। এই ভাস্কর্যের নামানুসারে পুরো চত্বরটির নামই হবে “দীপশিখা”। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির থ্রি-ডি ভিউ প্রস্তুত করা হয়েছে।

>> উপজেলার সকল উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজের সমন্বয়ে বিতর্ক উৎসবের আয়োজন। ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইউনিয়ন পর্যায়ে (১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায়) সকল উচ্চ বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে এবং প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়। ১২টি টিমের সমন্বয়ে উপজেলা পর্যায়ে (১০ ইউনিয়নের ১০টি ও পৌরসভায় ২টি) এবং কলেজ পর্যায়ের ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে উপজেলা পর্যায়ে বিতর্ক উৎসবের পরিকল্পনা নেয়া হয়।
>> বদরগঞ্জকে শতভাগ স্কাউট উপজেলা ঘোষণার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে শতভাগ স্কাউট উপজেলা ঘোষণা সম্ভব হতে পারে।
>> পাবলিক লাইব্রেরি (অস্থায়ী কার্যালয়) চালু।
>> উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি (অস্থায়ী কার্যালয়) চালু।
>> পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রতি বুধবার বিকাল চারটায় সাপ্তাহিক সেমিনার (এ পর্যন্ত ১৭টি) ও মডেল মসজিদ পাঠাগারে প্রতি বুধবার সন্ধ্যার পর সাপ্তাহিক ইসলামিক সেমিনারের আয়োজন (এ পর্যন্ত ১০টি)।
>> প্রথমবারের মতো তিনদিন ব্যাপী বদরগঞ্জ বইমেলা-২০২৩ আয়োজন।
>> যমুনেশ্বরী মঞ্চ নির্মাণ। (বদরগঞ্জের প্রধান নদী যমুনেশ্বরীর নামে)
>> বৈশাখী চত্বর নির্মাণ।
>> প্রতি সোমবার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা।
>> বিভিন্ন হাইস্কুল ও কলেজে ডিবেটিং ক্লাব ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালু।
>> বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রায় ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৈনিক সমাবেশে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন কর্মকর্তাগণের উপস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা প্রদান।
>> প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের লেখা কবিতা/প্রবন্ধ/অন্যান্য রচনা সম্বলিত বিশেষ প্রকাশনার উদ্যোগ। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশের লক্ষ্যে লেখা সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান।
>> উপজেলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও জিমনেসিয়াম চালু।
>> ১০টি ইউনিয়ন ও বদরগঞ্জ পৌরসভার অংশগ্রহণে জানুয়ারিতে ভলিবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি চলমান।

আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে
—————————-
>> উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা ইউনিয়ন পর্যায়ে আয়োজন। উক্ত সভার আউটপুট হিসেবে গোপীনাথপুর ও রাধানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে স্ট্রিটলাইট স্থাপন।
>> রংপুর-পার্বতীপুর মহাসড়কে বদরগঞ্জ অংশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে ১৩৭টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন।
>> বিভিন্ন জরুরি ফোন নম্বর ও হেল্পলাইনসমূহ উপজেলার দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে টাঙানো।

নারীর ক্ষমতায়নে

>> নারী উদ্যোক্তা কর্নার (স্বপ্নকলি) চালু। এতে রয়েছে “অপরাজিতা”- বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের হাতে তৈরি পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র; “বর্ণিলা”- বিউটিফিকেশনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের দ্বারা পরিচালিত বিউটি পার্লার; “চারুলতা”- নারীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রয় কেন্দ্র। এছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের নিকট থেকে রেজিস্ট্রেশনকৃত বিবাহের তালিকা সংগ্রহ করে তা তদন্ত করা হয়েছে। অতীতের কিছু রেজিস্ট্রেশেনবিহীন বিয়ে (বাল্যবিবাহ) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নের প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ চলমান।

সরকারি সেবা সহজীকরণে

>> হেল্পডেস্ক ও হেল্পলাইন স্থাপন: উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রবেশপথেই একটি হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে রয়েছে একটি হেল্পলাইন- ০১৭১৭৯১২১১৫। অফিস চলাকালীন যেকোনো সময়ে সরকারি সেবাসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
>> সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ বাক্স স্থাপন (উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, উপজেলা প্রকৌশলী, পিআইও ও সমাজসেবা কার্যালয়), পরামর্শ কর্নার (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) চালু করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে দিবসের তাৎপর্য সম্বলিত ‘ভাজপত্র’ প্রকাশনা।

কৃষি ও মৎস্য

>> ৮৫ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ। (বছর দশেক আগে এই কার্ড বিতরণের সময় কিছু কৃষক বাদ পড়েছিলেন; অনেকে কম জমি দেখানোয় সার বিতরণে ও কৃষি উপকরণ বিতরণে সমস্যা দেখা দেয়ায় তাঁদের জমি সংক্রান্ত তথ্য পুরোপুরি হালনাগাদ করার উদ্দেশ্যে এ কার্ড প্রস্তুত করা হয় )।
>> ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙা আমের প্রসারের লক্ষ্যে ৮০ জন আমচাষীকে আলাদা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং ওসমানপুর মাদ্রাসা বাজার সংলগ্ন স্থানে একটি আলাদা হাঁড়িভাঙা আমের হাট সৃষ্টি করা হয়।
>> মৎস্য আইন বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে উপজেলার ২০টি হাটে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়।

বিশেষ উদ্যোগ

>> স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে “মডেল গ্রাম” তৈরির কার্যক্রম চলমান।

অন্যান্য উদ্যোগ:

>> বদরগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের কাজ ৭০ ভাগ সম্পন্ন।
>> পরিষদ চত্বরের যেখানে-সেখানে পোস্টার লাগানো বন্ধে একটি “পোস্টার জোন” তৈরি।
>> উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স হস্তান্তরের ৬ বছর পর তা চালুকরণ এবং বিধি মোতাবেক দুটি তলা ভাড়াপ্রদান।
>> উপজেলা পরিষদ চত্বরের শতাধিক গাছে কলস বেঁধে পাখির নিরাপদ নীড় তৈরি।
>> বর্ষাকালেও ‘হাঁটু-পানি-থাকা’ পরিষদ চত্বরের পুকুরে পানি-ধারণের প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে ধারণ করে ও তা রক্ষায় বৈশাখী উৎসব ছাড়াও ‘বর্ষাবরণ’, ‘এই শরতে’, ‘নবান্ন উৎসব’, ‘পিঠা উৎসব’, ‘বসন্ত বরণ’, ‘ফল উৎসব’, ‘আবৃত্তি উৎসব’ ও ‘গজল সন্ধ্যা’র আয়োজন করা হয়।
বদরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদীতে বর্ষাকাল ব্যতীত অন্য সময় পানি না থাকায় পৌরবাজারের অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের ব্যবস্থা হিসেবে দুটি স্থানে বোরিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই পৌর মেয়রসহ বাজারের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। বদরগঞ্জকে প্রতিনিধিত্ব করে এমন ঐতিহ্য-সম্বলিত ভাস্কর্যও তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান শহিদ মিনারের সামনে পর্যাপ্ত স্থান না থাকায়, বিশেষত শিক্ষার্থী-সমাবেশের সুবিধার্থে ও বায়ান্নর চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে এবারের বিজয় দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভায় সুবিধাজনক স্থানে নতুন শহিদ মিনার স্থাপনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। এছাড়া বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের অংশগ্রহণে “এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি” এবং মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্বারা আলোচনা সভা আয়োজন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে এই কাজগুলোর সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে ২ শতক জমি প্রদানসহ ঘর বুঝিয়ে দেয়ার অপরিসীম ভালোলাগা পাবার অভিজ্ঞতা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছেন রংপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ আসিব আহসান, ড. চিত্রলেখা নাজনীন ও বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান স্যার। সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অপরিসীম সহযোগিতা ও আন্তরিকতার কারণে কাজগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
কাজ করতে গিয়ে কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে বা আমার কোনো কথায়-কাজে-আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। বদরগঞ্জের স্মৃতি হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে আজীবন।
বিদায়।

আবু সাঈদ
উপজেলা নির্বাহী অফিসার
বদরগঞ্জ, রংপুর।

add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (দুপুর ১২:১৮)
  • ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ১৮ শাবান, ১৪৪৫
  • ১৬ ফাল্গুন, ১৪৩০ (বসন্তকাল)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Sundarban IT