• আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
Logo

চিকিৎসকের অনুপস্থিতি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় সঙ্কট

লেখক : / ৯৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ৫ মে, ২০২৩

add 1

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ চিকিৎসকই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। ওসব চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালের কর্মস্থল থেকে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেই বেশি সময় দিতে আগ্রহী। জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ থাকার পরও শুধু চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণেই সরকারিভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আস্থার সংকট বাড়ছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ৭ ঘণ্টাকে সরকারি সব পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত সময় হিসেবে ধরা হয়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জরুরি বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের রোগীদের চিকিৎসা বাদে বহির্বিভাগের কর্মসময় সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত। এ সময়ে বহির্বিভাগের চিকিৎসা, কনসালটেশন, রোগ নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন কাজ হয়। কিন্তু বর্তমানে অর্ধেকেরও কম দেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের উপস্থিতির হার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট চিকিৎসকের অর্ধেকের বেশি অনুপস্থিত থাকেন। সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, আট বিভাগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ৩৪ হাজার চিকিৎসকের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার। বাকি পৌনে ২১ হাজার নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত হননি। শতকরা হিসাবে অনুপস্থিতি ৬১ শতাংশ। সূত্র জনায়, দেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউএইচসি) অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ থাকার পরও শুধু চিকিৎসকের অনুপস্থিতি। রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের বাইরে জেলা-উপজেলায় সরকারি চিকিৎসকের অনুপস্থিতির হার তুলনামূলক বেশি। স্থানীয় দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও কাজের অতিরিক্ত চাপ, কর্মজীবনের অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চিকিৎসকের অনুপস্থিত থাকার বিষয়কে প্রভাবিত করে। চিকিৎসকের উপস্থিতির হারে প্রায়ই পিছিয়ে থাকে বরিশাল, রংপুর ও খুলনা বিভাগ। রাজধানীতেও উপস্থিতির হার ৪০ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকরা সরকারি কর্মঘণ্টার মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বসে রোগী দেখছেন। সূত্র আরো জানায়, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীদের সুবিধার্থে ২০১২ সাল থেকে সেলফোনের খুদেবার্তায় (এসএমএস) অভিযোগ নেয়া শুর করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখা। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের এ ব্যবস্থাপনায় ৭৩৯টি সরকারি হাসপাতাল ও সংস্থা যুক্ত রয়েছে। এসএমএস করে সেবাগ্রহীতারা যেসব অভিযোগ করে তার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের অনুপস্থিতি অন্যতম। ২০১৪-১৯ সাল পর্যন্ত ২৪ হাজার অভিযোগ, পরামর্শ ও ইতিবাচক মন্তব্য গ্রহণ করেছে এমআইএস। এর মধ্যে ৩২ শতাংশই হচ্ছে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের অনুপস্থিতির বিষয়। তবে চিকিৎসকের উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন মাঠ পর্যায়ের অনেক চিকিৎসক। তাদের মতে, চিকিৎসকের অনুপস্থিতির হার এত বেশি হবে না। অনুপস্থিতির হার দিন দিন কমে এসেছে। ডিজিটাল হাজিরার ডাটাবেজে তথ্যের বিভ্রাট থাকতে পারে। চিকিৎসকরা বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণে যান, অফিসের কাজে বিভিন্ন জায়গায় যান। তাই হাজিরায় এমনটা হতে পারে। উপজেলা বা জেলায় এখন চিকিৎসকরা মোটামুটি উপস্থিত থাকেন। এমন অবস্থায় বড় ধরনের প্রমাণসাপেক্ষে জরিপ না হলে কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি বলা যাবে না। সরকারি হাসপাতালে সক্ষমতার বেশি রোগী চিকিৎসা নেয়। চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ও অন্যান্য জনবলের সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যন্ত্রাংশসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়েরও ঘাটতি রয়েছে। এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের কাজের চাপ এত বেশি যে একজন রোগীর অপেক্ষাকাল দীর্ঘ হয়ে যায়। যার জন্য সেবাপ্রত্যাশীরা মনে করেন তারা চিকিৎসককে পাচ্ছেন না। বহির্বিভাগে চিকিৎসকরা সাধারণত যথাসময়েই উপস্থিত হন। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে বহির্বিভাগে সক্ষমতার কয়েক গুণ রোগী আসে। সেজন্য রোগীকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সঠিক সময়ে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হন না, বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা দেরি করেন। তবে সবাই যে এমন করেন তা বলা যাবে না। বেসরকারি বা প্রাইভেট প্র্যাকটিসে চিকিৎসকদের অনেকে শ্রম দেন। স্বাভাবিকভাবেই এতে সরকারি কর্মক্ষেত্রে ঘাটতি হয়ে যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের মতে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা আরো পরিশীলিত হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। সরকারি বেতন নিয়ে কেউ সঠিক সময়ে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হবেন না, অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন, তা হতে দেয়া যাবে না। সমস্যার সমাধান করার উত্তম পন্থা হলো একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করে তার বাস্তবায়ন করা। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমান জানান, দেশের সরকারি হাসপাতালে ডিজিটাল হাজিরা নেয়া হয়। এ হাজিরা পর্যবেক্ষণের আলোকে অনুপস্থিতি বা স্বাস্থ্যসেবার অন্য বিষয়ে অভিযোগ এলে তা আমলে নিয়ে নিষ্পত্তি করা হয়।

add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (সকাল ১০:৫০)
  • ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ১৮ শাবান, ১৪৪৫
  • ১৬ ফাল্গুন, ১৪৩০ (বসন্তকাল)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Sundarban IT