• আজ- রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
Logo

কন্টেন্ট রাইটিংয়ের সিক্রেট টিপস জেনে নিন

লেখক : / ১৭৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪
ঘরে বসে আয় করার কৌশল
ঘরে বসে আয় করার কৌশল

add 1

একটি ভাল কন্টেন্ট যেমন- আপনার বা আপনার ওয়েবসাইটের জন্য অনেক বড় ভূমিকা রাখে, ঠিক তেমনই ভাল একটি কন্টেন্ট লিখতে বা তৈরি করতে কিছু নিয়ম-কানুন জানতে হবে। যে বিষয়গুলো একটা কন্টেন্টের মধ্যে থাকতে হবে। ঠিক তেমনি কিছু নিয়ম মেনে কন্টেন্ট তৈরি করলে তা সঠিক লক্ষে পৌঁছাতে আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। চলুন জেনে নেয়া যাক, কন্টেন্ট ভাল করার অব্যর্থ ও গোপনীয় ট্রিকস এন্ড টিপস, যা আপনাকে এক্সপার্ট কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

কন্টেন্ট এর উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য ঠিক করুন: উদ্দেশ্য বিহীন কোন কাজ ভাল হয় না, সফলও হয় না। আপনার কন্টেন্টের মধ্যে যদি ভাল উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে সেটা ভালো হবে না, এমনকি গ্রহনযোগ্যতাও পাবে না। তাই কন্টেন্ট বানানোর আগে আপনাকে ঠিক করতে হবে টার্গেট অডিয়েন্স আপনার কন্টেন্ট থেকে কি জানতে পারবেন। নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কন্টেন্ট সাজাতে পারেন। কন্টেন্টের উদ্দেশ্যগুলো যেমন হতে পারে, তা নিচে তুলে ধরা হলো-
১. টার্গেট অডিয়েন্সকে যেকোনো ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দেয়া।
২. অডিয়েন্স যদি কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়, তার সমাধান করা।
৩. টার্গেট অডিয়েন্সকে নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করা।
যেমন: সাহিত্যপাতার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট দেখলে মনে হয় যে, এটি একটি সাহিত্য বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম। যেখানে দেশ বিদেশের লেখকদের লেখা সমূহ সংরক্ষিত আছে। এছাড়া সাহিত্যপাতার ওয়েবসাইটে লেখক এবং পাঠকদের জন্য সম্মানী প্রদান করা হয়।

কন্টেন্টের আপডেটেড তথ্য সংগ্রহ করুন: আপনি যে বিষয়ের উপর কন্টেন্ট তৈরি করতে চান সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করুন। আপনি হয়ত সে বিষয় নিয়ে হাল্কা পাতলা কিছুটা জানেন। কিন্তু একটা বিষয় সম্পর্কে ওভাবে হাল্কা জানা আর সে বিষয়কে সুন্দরভাবে তথ্য নির্ভর করে উপস্থাপন করা এক জিনিস নয়। আপনি কন্টেন্টে প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো ডকুমেন্ট আকারে সাজাতে পারেন। এক্ষেত্রে তথ্যসূত্র উল্লেখ করে কপি পেস্ট করতে পারেন। এতে আপনার কন্টেন্টে কোন ইফেক্ট পড়বে না। কন্টেন্টের আউটলাইন অনুযায়ী কন্টেন্টের তথ্যগুলো এক জাগায় নিয়ে আসলে কন্টেন্ট বানাতে অনেক সুবিধা হবে।

টার্গেটেড অডিয়েন্স সেট করুন: কন্টেন্ট দিয়ে আপনি আপনার একটি নির্দিষ্ট টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছতে চান। তাহলে আপনি যাদের জন্য কন্টেন্ট বানাচ্ছেন, তাদের পছন্দ-অপছন্দ, আচার-আচরণ, প্রয়োজন সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা থাকা দরকার। যাদের জন্য কন্টেন্ট লিখছেন অবশ্যই তাদের কিছু জিনিস আপনার বিবেচনায় রাখতে হবে। যেমন –
১. যাদের জন্য কন্টেন্ট লিখছেন তাদের বয়সের রেঞ্জ কত?
২. তারা কোন জেন্ডারের, ছেলে নাকি মেয়ে। আপনার কন্টেন্ট কাদের জন্য লেখা?
৩. আপনার কন্টেন্ট এর বিষয়ে অডিয়েন্স কিরকম ধারণা করতে পারে বা কি ভাবতে পারে? সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।
৪. আপনার কন্টেন্ট পড়ে অডিয়েন্সের কতটুকু জানার সম্ভাবনা রয়েছে? সে দিকেও নজর রাখতে হবে।
আপনার কন্টেন্ট এর টার্গেট অডিয়েন্স ঠিক করার সময় উপরের বিষয়গুলা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনাকে কন্টেন্টের ধরন ও ভাষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

কন্টেন্ট অনুযায়ী আউটলাইন তৈরি করুন: কন্টেন্টের আউটলাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রপিক। আপনি যদি আগে থেকে কন্টেন্টের আউটলাইন ঠিক করে রাখেন, তাহলে আপনার কন্টেন্ট লিখতে যেমন সুবিধা হবে, তেমনি কন্টেন্টের সব কিছু একসাথে সাজানো গুছানো অবস্থায় নিয়ে আসতে পারবেন। এতে করে আপনার অনেকটা সময় বেঁচে যাবে। আউটলাইন বানানোর আরেকটি বড় সুবিধা হলো, আপনার কন্টেন্টের গঠন অনেক সুন্দর হবে। যেভাবে আকর্ষণীয় আউটলাইন বানাবেন তা নিচে তুলে ধরা হলো –
১. সম্পূর্ণ কন্টেন্টকে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি ধাপে ভাগ করে নিন।
২. কন্টেন্টের কোন অংশে কি কি থাকবে, সে বিষয়গুলো সুন্দর করে বুলেট পয়েন্ট আকারে লিখে রাখুন।
একটু উদাহরণ দিলে আপনাদের বুঝতে সহজ হবে। ধরুন আপনি একটি সুন্দর মজাদার খাবারের রেসিপি লিখবেন। তখন আপনার কন্টেন্টের আউটলাইনটা এমন হতে পার-
১. যে খাবার তৈরি করছেন সে খাবারের নাম।
২. খাবার তৈরি করার সকল উপকরণ। কি কি লাগবে, কি কি লাগবে না, কি কি ব্যবহার করলে খাবারটা আরো মজাদার হতে পারে। তাছাড়া এই খাবার বানাতে কোন জিনিস কতটুকু পরিমাণে দিতে হবে তার লিস্ট।
৩. খাবারের বিশেষত্ব অর্থাৎ আপনার তৈরি খাবার অন্য সবার থেকে কেন স্পেশাল। খাবারের স্বাদ কেমন। খাবারের স্বাস্থ্য উপকারিতা কি কি?
৪. খাবার বানানোর স্টেপগুলো এবং খাবার বানাতে কত সময় লাগবে।
৫. সুন্দরভাবে খাবার পরিবেশন এর সঠিক ও সেরা উপায়।

মূল পয়েন্টগুলোতে ফোকাস থাকুন: আপনি যখন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলবেন এবং আলোচনা করবেন, তখন আপনার চারপাশে আরও অনেক বিষয় উঠে আসতে পারে যা, আপনাকে ঐ বিষয়টি যথাযথ বুঝতে সাহায্য করবে। কিন্তু আপনার কন্টেন্টের মূল ফোকাসের যে বিষয় আছে, সে দিকে নজর রাখুন যেন, আপনি আপনার মূল বিষয় থেকে সরে না যান। বিশেষ করে ওয়েব কন্টেন্ট তৈরি করার সময় মূল বিষয়ের বাইরে যেন আপনার বক্তব্য সরে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ধরা যাক, আপনি একটি ১৫ মিনিটের ভিডিও তৈরি করতে চান, আর তা হলো – “কীভাবে একটি ভাল সেল ফোন কিনবেন”? এই ক্ষেত্রে, আপনার স্ক্রিপ্টে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম থাকতে পারে। কিন্তু বারবার নানা ব্র্যান্ডের মডেলের নাম উল্লেখ করতে থাকলে সেগুলোর ফিচার নিয়ে কথাবার্তা জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠবে।

সমস্যা সমাধানের কন্টেন্ট লিখুন: আপনার কন্টেন্ট পড়ে টার্গেট অডিয়েন্সদের কাজে আসবে বা উপকারে আসে, এমন কিছু বিষয় নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করুন। এমন কোন তথ্য বা পরামর্শ দিতে পারেন যা, তাদের জীবনে কাজে আসবে। এমনকি বাস্তব জীবনে সেটা প্রয়োগ করে কিছু করতে পারবে, শিখতে পারবে, এমন কন্টেন্ট লিখুন। ধরুন, আপনি ভিডিও এডিটিং নিয়ে একটি স্ক্রিপ্ট লিখছেন বিগিনার লেভেলের নন-টেকনিক্যাল অর্থাৎ যারা একদম নতুন এমন অডিয়েন্সের জন্য। সেক্ষেত্রে আপনি ভিডিও এডিটিং এর সকল বিষয় নিয়ে একটি কন্টেন্ট মধ্যে আলোচনা না করে, বাস্তব জীবনে কাজে আসবে এমন ৮ থেকে ১০ টি ট্রপিক বা ফাংশন নিয়ে আলোচনা করুন। যাতে করে একদম নতুন যারা তার কিছু শিখতে পারে এবং তাদের বাস্তব জীবনে সেটা কাজে আসে, উপকারে আসে এমন কন্টেন্ট লিখুন। তাছাড়া আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সরা কী ধরনের প্রব্লেম ফেস করে, তা রিসার্চ করে, সল্যুশন ভিত্তিক কন্টেন্ট প্রোভাইড করুন।

ইউজার ফ্রেইন্ডলী কন্টেন্ট স্ট্রাকচার করুন: আপনার রূপরেখা অর্থাৎ আউটলাইনের প্রতিটি পয়েন্টকে কন্টেন্টের একেকটি অংশ হিসাবে গণ্য করতে পারেন। পয়েন্টগুলোকে যদি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়, তাহলে পয়েন্টগুলোকে ধাপে ধাপে পয়েন্টে পয়েন্টে ভাগ করে ফেলুন। কন্টেন্টের গঠন কাঠামো পরিষ্কার ও স্বচ্ছ রাখার জন্য বিষয়টি ধাপে ধাপে তুলে ধরুন। সাথে সাথে উদাহরণ ব্যবহার করলে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হবে এবং গ্রহণযোগ্যতা পাবে। মূল কথা হলো- কন্টেন্ট এর গঠন কাঠামো পরিষ্কার রাখুন যাতে, আপনার টার্গেট অডিয়েন্স খুব সহজেই বিষয়টি বুঝতে পারে, যা আপনি তাদের বুঝাতে চাচ্ছেন।
সহজ ভাষায় কন্টেন্ট লিখুন: কন্টেন্ট লেখার ক্ষেত্রে ‘সহজ ভাষা’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কন্টেন্ট এর ভাষা ব্যবহারে ক্ষেত্রে আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, সেটি যেন কঠিন বা গুরুগম্ভীর না হয়। অনেক কঠিন এবং বড় কোন শব্দ অডিয়েন্সের মধ্যে এক ধরনের বিরক্ত ভাব নিয়ে আসতে পারে। কন্টেন্ট এর ভাষা যত সহজ হবে অডিয়েন্সের কাছে সেটা তত গ্রহণযোগ্যতা পাবে। তাই যতটা সম্ভব কন্টেন্টকে সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখার চেষ্টা করুন, যাতে সকল ধরনের মানুষ আপনার কন্টেন্ট পড়তে পারে এবং বুঝতে পারে।
নিজস্ব স্টাইলে লিখুন: অন্যকে অনুকরণ বা নকল করে নয় বরং, নিজের স্টাইল এবং অডিয়েন্সের ধরন অনুযায়ী আপনার কন্টেন্টকে সাজিয়ে লিখুন। যেভাবে লিখলে আপনার নিজের স্টাইল ও কন্টেন্টের কোয়ালিটি ঠিক থাকবে, আবার অডিয়েন্সের চাহিদাও মিটবে, সেইভাবে আপনার লেখা বা আপনার কন্টেন্টকে উপস্থাপন করুন। অনেকে খুব গুরুগম্ভীর ভাষা ব্যবহার করে কন্টেন্ট লেখে, আবার কেউ কেউ একটু রচনার মত করে কৌতুক মিশিয়ে সেটা উপস্থাপন করে, আবার অনেকে খুব আবেগ ইমোশন নিয়ে লেখে, আবার কেউবা নিজের বাস্তব জীবনের ঘটনা নিয়ে কন্টেন্ট লেখে।

কন্টেন্ট রাইটিং শিখুন

add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (বিকাল ৪:৫৮)
  • ২১ জুলাই, ২০২৪
  • ১৪ মহর্‌রম, ১৪৪৬
  • ৬ শ্রাবণ, ১৪৩১ (বর্ষাকাল)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Sundarban IT